Skip to main content

জি কে শামীমের আলিসান বাড়িতে ভূতুড়ে পরিবেশ


 
ছবিঃ দৈনিক নয়াদিগন্ত
জি কে শামীমের আলিশান বাড়িতে সুনসান নীরবতা
সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া গ্রাম। চার দিকে গাছগাছালি আর সবুজের সমারোহ। সেখানেই আলিশান তিন তলা বাড়ি। প্রধান ফটকে মনোরম লোহারগেট। ভেতরে রয়েছে দামি দামি ফার্নিচার। বাড়িতে রয়েছে বিশাল বৈঠকখানা। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এ বাড়ি নির্মাণ করলেও এখানে থাকতেন না জি কে শামীম। মাঝে মাঝে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসতেন। সর্বশেষ এসেছেন গত ঈদুল আজহায়। জি কে শামীমের এ আলিশান বাড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। বাড়ির কেয়ারটেকার তালা দিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। তবে জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকার উৎসুক জনতার নজর বাড়িটির দিকে।
জি কে শামীমের ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন জানান, চাচা তো যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। শেষ ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। কেয়ারটেকার চলে গেছে দুই দিন আগে তালা দিয়ে। তবে কোথায় গেছে জানি না।
গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে বিপুল টাকা ও অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীম কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক তা জানেন না প্রতিবেশীসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানায়, ঢাকার সবুজবাগে এক সময় মেসে থাকতেন জি কে শামীম। মাত্র ৩০০ টাকায় মেসের সিট ভাড়া দিয়ে থাকতেন। অথচ তিনি এত টাকার মালিক কিভাবে হলেন সেটা ভেবে কূল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কোনো শিল্প কারখানা নেই, বড় ধরনের কোনো কোম্পানি নেই, শুধুমাত্র টেন্ডার-ঠিকাদারি করে শত শত কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলেন সেই প্রশ্ন এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
সরেজমিনে সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া এলাকায় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বাড়িতে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়। চর বলুয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিনের তিন ছেলে ও চার মেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে লুৎফুনেছা মারা গেছেন। বাকি তিন মেয়ে বেলি, গোলাপী ও ইমামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তিন ছেলে হলোÑ গোলাম হাফিজ নাসির, জি কে শামীম ও হোসাইন।
স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জি কে শামীমের বাবা আফসার উদ্দিন উপজেলার হরহরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রায় ৪ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে পৈতৃক সম্পত্তি ৫-৬ শতাংশ জায়গার ওপর করা প্রায় ২-৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলা ভবন। কিন্তু বাড়িতে কেউ থাকেন না।
বাড়িতে মাঝেমধ্যে এলে অচেনা লোকদের নিয়ে বৈঠকখানায় সময় দিতেন। আর এত টাকা খরচ করে তিন তলা বিল্ডিং করলেও বাড়িতে শুধুমাত্র একজন কেয়ারটেকার থেকে বাড়িটি দেখাশোনা করেন। কিন্তু জি কে শামীম ঢাকায় আটক হওয়ার পর টিভিতে সংবাদ দেখে বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে কেয়ারটেকারও আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে শামীমের বাড়ির পাশের চায়ের দোকানগুলোতে টেলিভিশনের সংবাদ দেখার জন্য বেশির ভাগ সময় এলাকার লোকজন ভিড় জমান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জি কে শামীম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রাইমারি কেটেছে বাবার স্কুলে। এরপর সোনারগাঁ বারদী আলিয়া মাদরাসা থেকে এসএসসি সমমান (দাখিল) পাস করেন। এরপর উপজেলার পঞ্চমীঘাট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ১৯৮৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশে সোনারগাঁ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে প্রথমে একটি মেসে উঠেন শামীম। সেখান থেকে তার বড় ভাই গোলাম হাফিজ নাসিরের মাধ্যমে ঠিকাদারির একটি লাইসেন্স করেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।
সনমান্দি ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, শামীম বহু আগেই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় বসবাস করত। মাঝে মাঝে সোনারগাঁওয়ে আসতেন। যতটুকু জানতাম, শামীম ঢাকায় বসবাস করে ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। আর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সে। কিন্তু টিভিতে যখন দেখি জি কে শামীম কোটি কোটি টাকা নিয়ে আটক হয়েছেন। তারপর দেখি শামীমের সব তথ্য বের করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উনি ব্যক্তি হিসেবে খারাপ না। এলাকার সবাইকে সম্মান দিতেন এবং মুরুব্বিদের সম্মান দিয়ে কথা বলতেন।

Comments

Popular posts from this blog

সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী (রহঃ) ইসলামী ইসলামী আন্দোলনের উজ্জ্বল নক্ষত্র

সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী ছিলেন একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ, মুজাদ্দিদ ও দার্শনিক। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নামে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবাতে পড়া হয়। জন্ম :  মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ.) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ সালে ভারতের হায়দরাবাদ দাক্ষিণাত্যের শহর আওরঙ্গাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তার বাবা মাওলানা আহমদ হাসান এর তিন সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর পিতা ছিলেন চিশতি ধারার বংশধর। তাঁর পিতা ও মাতা উভয়ের পরিবার আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলেন।  শিক্ষা ও ক্যারিয়ার :  শৈশবে নয় বছর পর্যন্ত মওদূদীকে গৃহশিক্ষা দেওয়া হয়, তিনি তার পিতার হাতে এবং তার দ্বারা নিযুক্ত বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন। এই শিক্ষার মধ্যে ছিল আরবি, ফারসি, ইস...

ইরানের ওপর যে আক্রমণ করবে তাকেই প্রতিহত করা হবে

সৌদি আরবে মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা আসার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি হুমকির সুরে বলেছে, ইরানের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার হামলা তারা বরদাশত করবে না। আক্রমণকারী যেকোনো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ইরান। ইরানের এক সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করা সেই সামরিক কর্মকর্তা হুমকির সুরে বলেছেন, ‘ইরানের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কোনো ভুল কোরো না।’ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিলেও প্রচ্ছন্নভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একপ্রকার হুমকিই দিয়েছেন ইরানের সেনা কর্মকর্তা ও ইরানিয়ান রেভল্যুশনারি গার্ডসের কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। ইরানের মাটিতে হামলা করার সাহস যেন কেউ না দেখায়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। রাজধানী তেহরানে এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ইরানের গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আমরা কখনোই বহির্বিশ্বের কোনো দেশকে ইরানে ঢুকে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করতে দেব না। ইরানের ওপর যে আক্রমণ করবে, তাকেই প্রতিহত করা হবে। আক্...

পবিত্র কোরআনের অনুবাদক গিরিশচন্দ্রের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১৫ আগস্ট, পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশচন্দ্র সেনের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের প্রথম সার্থক বাংলা অনুবাদক গিরিশচন্দ্র সেন ১৮৩৪ সালের এপ্রিল অথবা মে মাসে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ। ব্রাহ্ম ধর্মপ্রচারক হিসেবে ‘ভাই’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। আবার আরবি ও ফার্সি ভাষায় জ্ঞান অর্জন ও কোরআন-হাদিসের প্রথম অনুবাদক হিসেবে লাভ করেন মৌলভি খেতাব। তিনি প্রায় সব ধর্মগ্রন্থ নিয়ে গবেষণা করেছেন। মৃত্যুর পর গিরিশচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত পাঁচদোনার বাড়িটি সংরক্ষণ হয়নি। উল্টো দখলে চলে গিয়েছিল তাঁর ভিটেবাড়ি। নিশ্চিহ্ন হতে চলেছিল তাঁর শেষকৃত্যের স্থানটিও। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন গিরিশচন্দ্রের বাড়ি দেখার জন্য ছুটে এসে হতাশ হন। ২০০৮ সালে তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কৌতূহলবশত বাড়িটি দেখতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাড়িটি সংস্কারে অনুদানের ব্যবস্থা করেন। পরে ভারতীয় সরকারের...